Friday, August 25, 2017

Kayaking in Bangladesh(কাপ্তাই)

                      
kayaking

যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয় নদীতে নৌকা দিয়ে চড়তে কেমন লাগে!!নিশ্চই বলবেন,ভালোই লাগে!এবার যদি পালটা প্রশ্ন করা হয়,আপনাকে যদি কয়েক মুহুুর্তের জন্য নৌকায় শুধু চড়তে না, চালাতেও দেওয়া হয় তখন কেমন বোধ করবেন!!নিশ্চই এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি।হলেও ৫/১০ মিনিটের বেশী স্থায়ী হয়নি।
তো,হয়ে যাক না নতুন কোন অভিজ্ঞতা।

নিজ হাতে নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতাটা নিতে চলে আসুন 'কাপ্তাই কায়াক ক্লাব'।মনোরম পরিবেশে কর্ণফুলী নদীর খরস্রোতা পানিতে কায়াকিং করতে পারবেন যতক্ষন খুশি ততক্ষন।
একটি কায়াকিং বোটে সর্বোচ্চ ২ জন উঠতে পারবেন।যারা সাতার পারেন না তাদেরকে কায়াকিং এর আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছে না কায়াক ক্লাব।সবার জন্যই আছে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা।জরুরী প্রয়োজনে ঘাটে রাখা আছে ইঞ্জিন নৌকা।কায়াক ক্লাব কর্তৃপক্ষ বোট ভাড়া দেয় আধা ঘন্টা এবং এক ঘন্টা হিসেবে।আধা ঘন্টা কায়াক করলে ১৫০টাকা(২ জন) এবং ১ ঘন্টা কায়াক করলে ৩০০টাকা(২ জন)।তবে চুয়েট এবং সুইডেন পলিটেকনিকনিকাল ইন্সটিটিউট এর স্টুডেন্টদের জন্য ঘন্টা প্রতি ২০০ টাকাএবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের জন্য ঘন্টাপ্রতি ২৫০ টাকা করে রাখে।
তবে আর দেরী কেনো!ঘুরে আসুন কাপ্তাই কায়াক ক্লাব থেকে এবং অর্জন করুন নতুন কোনো অভিজ্ঞতা। 
কিভাবে যাবেনঃ
মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে,চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাই যাওয়ার উপায় কি!শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে চলে আসুন বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে।সেখানে কাপ্তাই যাবার বাস পাওয়া যায়।কন্ট্রাক্টরকে বলবেন জুম রেস্তোরা নামিয়ে দিতে।ভাড়া নিবে ৬৫ টাকা।জুম রেস্তোরার পাশেই কায়াক ক্লাব। 
ঢাকা থেকে যারা আসতে চান তাদের জন্য কাপ্তাইয়ের সরাসরি বাস আছে শ্যামলী কিংবা সৌদিয়ার।এছাড়া অন্য বাসে বা ট্রেনে করে চট্টগ্রাম এসে লোকাল বাসে করে বহদ্দারহাট টার্মিনাল চলে আসবেন এবং উপরের নির্দেশনাটি লক্ষ্য করুন। 

kaptai lake
                                                                   কাপ্তাই লেক
খাওয়া দাওয়াঃ
দুপুরের খাবারের জন্য পাশেই আছে 'ফ্লোটিং প্যারাডাইজ' রেস্টুরেন্ট।খাবারের মান ভাল এবং দামও স্বাদের সাথে মানানসই। সাথে ঘুরে আসতে পারেন 'শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্ক'।পার্কে গেলে আপনি ১৫ মিনিটের ক্যাবল কার রাইড উপভোগ করতে পারবেন।একটা ক্যাবল কারে সর্বোচ্চ ৬ জন উঠা যায়।প্রতিজনকে গুনতে হবে ২৩০ টাকা সাথে পার্কে এন্ট্রি ফি ২৩ টাকা।

কাপ্তাই ঘুরে আসুন,নতুন কিছু জানুন এবং একদিনের জন্য মাঝি বনে যান 


লেখকস্বরুপ ভৌমিক অন্তু

Monday, July 10, 2017

Bashbaria Sea Beach

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতঃ

Bashbaria beach
                                             দেখতে অনেকটা কার্পেট এর মত..!! 

Bashbaria Sea Beach
                                                                  ঝাউবন

ছুটির শেষপ্রান্তে এসে যাওয়া হইলো এতদিন ধরে শুনে আসা এই জায়গায়! জায়গার সৌন্দর্য যদ্দুর পারা যায় ছবি তুলে আনলেও ঐ জায়গার পাগলা বাতাস, ব্রিজটার উপরে হেটে যাওয়ার সময় হঠাৎ ঢেউ এর ধাক্কা, ঝাউবনে বসে বিকালটা শেষ হতে দেখা এসবের ঐ জায়গায় যাওয়া লাগবেই লিখে বা বলে বুঝানো যাবে না ঐ জায়গার সৌন্দর্য.....!!

 কিভাবে যাবেনঃ 
 চট্টগ্রাম থেকে: শহরের একেখান মোড় থেকে সীতাকুণ্ড গামী যেকোনো বাস/রাইডার/টেম্পো তে উঠে বাঁশবাড়িয়া বললেই নামায় দিবে জায়গামতো ভাড়া: ৩০ টাকা। নেমেই চোখে পড়বে পশ্চিমগামী এক রাস্তা, রাস্তার মুখেই সিএনজি/রিকশা দাঁড়ানো থাকে। পার পারসন ২০ টাকা করে চলে যাওয়া যাবে বিচের একদম মুখে! ফেরত আসা: ঠিক একই পথে উলটা ভাবে।

ঢাকা থেকে: চট্টগ্রাম গামী যেকোন বাসে উঠে বাঁশবাড়িয়া,সীতাকুণ্ড নেমে একই ভাবে রিকশা, সিএনজি যোগে সরাসরি বিচে! ফেরত: একই পথে উলটা ভাবে।
 সাইক্লিস্টরা শহর থেকে ঢাকা-সিটিজি হাইওয়ে ধরে সহজেই চিনে চলে যেতে পারবেন চাইলে যাওয়ার বেস্ট সময় হইলো বিকাল বেলা ।যদি সম্পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তবে অবশ্যই সূর্যাস্ত দেখে আসবেন।


Bashbaria beach
                                   বাঁশবাড়িয়া বিচের অন্যতম সৌন্দর্য এই ব্রিজটা


Bashbaria Sea Beach
                            যথেষ্ট লম্বা এই ব্রিজ জোয়ারের সময় পানিতে প্রায় ডুবে যায়

Bashbaria Sea Beach


জায়গা সেইফ আছে! বন্ধের দিন ভালো সমাগম হয় মানুষের! ব্রীজে একসাথে বেশি মানুষ উঠলে নামাই দিতে পারে,কারন ব্রীজটা অতো স্ট্যাবল না। বেশি দূর না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে!

খাওয়া দাওয়াঃ
খাওয়ার ভালো কোন ব্যবস্থা ঐখানে নাই।শুকনা খাবার সাথে করে নিয়ে যেতে পারলে ভালো।লাঞ্চ করে গেলেই ভালো।খেতে হলে আপনাকে মেইন রোডে আসতে হবে। তবে যাই করেন না কেন ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশটা নষ্ট করবেন না প্লিজ।



লেখকঃশাহাদাৎ মুরশেদ

Friday, May 26, 2017

Sitakundu Eco Park



সীতাকুণ্ড ইকো পার্কঃ





আজকে আপনাদের কে বলবো নয়নাভিরাম সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক এর কথা।
এই গরমে যদি একটু স্বস্তি পেতে যান পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তবে আমি মনে করি সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক হতে পারে আপনার জন্য অন্যতম জায়গা।এখানে  রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা  বিশাল পার্ক,পাশাপাশি রয়েছে ২টা ঝর্না যার একটার নাম হলো সহস্রধারা ঝর্না যেটা কিনা এই এলাকার মধ্যে যথেষ্ট পরিচিত একটি ঝর্না।



কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গামি যেকোনো বাস এ উঠে সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক এর কথা বললেই একেবারে জায়গা মত নামিয়ে দিবে।রাস্তা থেকে কিছুটা ভিতরে পার্ক টা।গাড়ি থেকে নামলেই আপনি রাস্তার পাশেই সিএনজি দেখতে পাবেন।সিএনজি করে দুই ভাবে ইকো পার্কে যাওয়া যায়।একঃ ইকো পার্ক এর গেইট পর্যন্ত,যার ভাড়া পার পারসন ১০ টাকা করে।
দুইঃ এই ইকো পার্ক এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় সহস্রধারা ঝরনা পর্যন্ত,যার ভাড়া পার সিএনজি ৩০০ টাকা চাইবে।তবে দরদাম করলে ২৭০-২৮০ এর মধ্যে যাওয়া যায়।তবে আমার মতে এখন সিএনজি তে না উঠে আপনারা একটু কষ্ট করে হেঁটেই ইকো পার্ক এর গেইট পর্যন্ত চলে যান।কারন সেটা খুব একটা দূর নয়।পরে ফিরতি পথে ঝর্নার ওখান থেকে সিএনজি উঠতে পারেন এবং সেটাই বেস্ট হবে কারন যাওয়ার সময় হেঁটে গেলে প্রকৃতির সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন পাশাপাশি সবকিছু দেখতেও পারবেন এক্ষেত্রে টাকাটাও সেইভ হলো তাছাড়া তখন এনার্জিও থাকবে।তাইলে আর যাইতে আসতে ৩০০ করে ৬০০ টাকা খরচ করতে হলো না,যাস্ট আসার সময়  ৩০০ টাকা লাগলো। যাই হোক  গেইটে টিকেট কাউন্টার দেখতে পাবেন।টিকেট এর মূল্য পার পারসন ২০ টাকাতবে সাথে বিদেশি থাকলে ৫ ডলার করে।আমাদের সাথে এক চাকমা ফ্রেন্ড ছিল যাকে  অনেকটা বিদেশিদের মতই দেখতে লাগতো..!! কাউন্টারের লোকটা তো আমাদের জিজ্ঞেসই করে ফেললো যে সে বিদেশি কিনা..!!
যাই হোক সেখান থেকে টিকেট কিনে আমরা পার্ক এর ভিতরে প্রবেশ করলাম।

কি কি দেখবেনঃ
শুরুতে একটা চত্বর পরবে।চত্বর টা দেখলেই আপনার মন ভাল হয়ে যাবে কথা দিলাম।একপাশে দেখতে পাবেন  আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর একটি আবক্ষ প্রস্তর  মূর্তি।তার পাশেই আছে একটা শহীদ মিনার। তার পাশে একটা ছোট্ট ব্রিজ এবং ব্রিজ এর পাশেই বাচ্চা দের খেলার জন্য ২\৩ টা রাইড যেমন একটা দোলনা,একটা স্লিপার ইত্যাদি। যদিও সেগুলা বাচ্চাদের দের জন্য বাট লোভ সামলাতে না পেরে আমরাও একটু চরেছিলাম রাইড গুলাতে..!!
রাইড দেখা হলে আবার পিছনের দিকে আসুনগেইট বরাবর এসে এইবার সামনের দিকে চলা শুরু করুন।সবকিছু এই দিকেই।শুরুতে একটা সাইনবোর্ড পাবেন যেখানে পুরা ইকো পার্ক এর কোথায় কি আছে এবং কত কিলোমিটার পর সেগুলাতে পৌঁছাতে পারবেন তা দেয়া আছে।এটা দেখে রাখুন এবং সম্ভব হলে ছবি তুলে রাখুন।এইবার  যাত্রা শুরু করুন।
যাত্রাপথে কিছুক্ষন পরেই পরিশ্রান্ত লাগতে পারে। সেজন্য কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নিন।এভাবে আগাতে থাকুন।পথে পথে দেখতে পাবেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য।আমরা ভাগ্যক্রমে অনেক বানর দেখতে পেয়েছিলাম।এছাড়াও ভাগ্য থাকলে আরও  অনেক কিছু দেখতে পাবেন,সেই সাথে ইকো পার্কের সৌন্দর্যমন্ডিত গাছগাছালি তো আছেই এবং জায়জায়গায় বিভিন্ন সাইনবোর্ডে সুন্দর সুন্দর লিখা  দেখতে পাবেন।এভাবে আগাতে থাকলে একে একে শুরুর সাইনবোর্ডে দেখা জায়গা গুলা দেখতে পাবেন যেমন ০.৫ কিলোমিটার গেলে পাবেন গোলাপ চত্বর,১.১ কিমি গেলে পাবেন সুপ্তধারা ঝর্ণা। এটাতে যেতে হলে আপনাকে ১.১ কিমি যাওয়ার পর একপাশের  সিঁড়ি ধরে আবার নিচে নামতে হবে।একেবারে ঘন বর্ষা না হলে এই ঝর্ণা টা তে যাওয়ার দরকার নাই।কারন বছরের বেশির ভাগ সময়ই এটা শুকনা থাকে,সেই জন্যই এর নাম সুপ্তধারা দেয়া হয়েছে।
যদি না গিয়ে থাকেন তবে আরও উপরে উঠতে থাকুন।এভাবে প্রায় ২.৮ কিমি পরে আপনি উঠে যাবেন ১২০০ ফুট উপরে...!! সেখান থেকে আবার সিঁড়ি ধরে নিচে নামতে হবে।এখান পর্যন্ত এসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিন।কারন সামনে ভালই পরিশ্রম করতে হবে।কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে এবং হালকা পানীয় খেয়ে আবার যাত্রা শুরু করুন।এইবার সিঁড়ি ধরে নিচের দিকে নামতে হবে।নামতে গেলেই বুঝবেন আসার সময় কি পরিমান কষ্ট করতে হবে...!! আমরা সিঁড়ি গুলা গুনেছিলাম।প্রায় ৪৮২ টা সিঁড়ি রয়েছে সেখানে...!!!!




                    সহস্রধারা তে যাওয়ার পথের সিঁড়ি



যাই হোক আসারটা আসার সময় দেখা যাবে এই ভেবে দ্রুত নেমে যান এবং কিছুক্ষন পরেই পেয়ে যাবেন এই পুরা সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় সহস্রধারা ঝর্না..!! এরপর আরকি..? নেমে যান ঝর্নার শীতল পানিতে।তেমন একটা গভীরতা নাই,সুতরাং যারা  সাঁতার জানেন না তারাও মোটামুটি নামতে পারেন।ঘন বর্ষায় গেলে খুবই ভাল হয় কারন তাইলেই ঝর্নার আসল সৌন্দর্য টা দেখতে পারবেন।




                               সহস্রধারা ঝর্না



এরপর ফিরতি পথে কষ্টকর ৪৮২ টা সিঁড়ি পার হতে হবে।সুতরাং সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেই সিএনজি তে  উঠে পরতে পারেন। ভাড়া ২৭০ থেকে ৩০০ নিবে।সিএনজি আপনাকে একেবারে সীতাকুণ্ড হাইওয়ে তে নামিয়ে দিবে সেখান থেকে আপনি খুব সহজেই বাস ধরে চলে যেতে পারেন আপনার গন্তব্যে।