Monday, February 27, 2017

Sajek Valley

সাজেক ভ্রমনঃ
২৫/১২/১৬ রাত ১০:১৫ মিনিটে শান্তি পরিবহনে করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু। ভাড়া ৫২০ টাকা প্রতিজন। অনেক বাস আছে শ্যামলি, সৌদিয়া,ইকনো এবং অন্যান্য। শান্তি পরিবহনে সামনের দিকে সিট পেয়েছিলাম। তাই এটাটেই টিকিট কেটেছিলাম। 
                                                             মেঘে ঢাকা সাজেক
২৬/১২/১৬ ভোর ৫টার দিকে খাগড়াছড়ি পৌছাই। তখনো নাস্তা করার জন্য কোন হোটেল খোলেনি।তারপর একটু অপেক্ষা করে বাসষ্ট্যন্ডের পাশেই মনটানা হোটেল এ নাস্তা খাই। খাবারের মান ভালো এবং দাম সহনীয়। তারপর আশেপাশে থাকার জন্য কয়েকটি হোটেল খোজ করি। একটাও তেমন ভাল লাগেনা। তখন এক অটো ড্রাইভার এর পরামর্শে শহরের একটু বাইরে hotel echochari inn এর উদ্দেশে রওয়ানা দেই। বাসষ্ট্যন্ড থেকে যেতে সেখানে ২০ মিনিটের মত সময় লাগে অটোতে করে যেতে। ভাড়া নেয় ৬০ টাকা। আরেকটা কথা বলে রাখা দরকার খাগড়াছড়ির মুল পয়েন্ট বলি আর বাসষ্ট্যন্ড বলি তা শাপলা চত্তর নামে পরিচিত। আচ্ছা তারপর hotel echochari inn দেখে মনটা 
ভালো হয়। খাগড়াছড়িতে যেমন রিসোর্ট কল্পনা করেছিলাম অনেকটাই মনের মত। সেখানে কথা বলে রুম ঠিক করি। সেখানে তাদের শুধু ডাবল বেড রুম হয়। ভাড়া নিবে ১২০০ টাকা প্রতি রাত। ২ জন থাকা যাবে। ফিক্সড প্রাইস। আগের থেকে বুকিং না দিয়েও ভাগ্যজোরে রুম পেয়ে যাই। মোটামুটি সব ধরনের সুযোগ সুবিধাই পাবেন এই হোটেলে। আপনারা যাবার আগে চেষ্টা করবেন বুক করে যেতে। তাদের কন্টাক্ট নাম্বারঃ ০৩৭১-৬১৬২৫, ০৩৭১-৬১৬২৬, ০১৮২৮-৮৭৪০১৪। তারপর হোটেল এ গিয়ে ৯:৩০ এর দিকে একটু ঘুম দেই। ঘুম থেকে উঠি ২ টার দিকে। তারপর আবার শাপলা চত্তর গিয়ে হোটেল মনটানার পাশে চিটাগং হোটেল এ খাওয়া দাওয়া করি। এখানেও খাবার ভালো। হোটেল ইকোচারিতেও খাবারের ব্যবস্থা আছে। তবে আগে অর্ডার দিতে হবে। তারপর একটা অটো ঠিক করি ঝুলন্ত ব্রিজ নিয়ে যাবে। ২৫০ টাকাতে রাজি হয়। কোন তাড়াহুরা না করে সম্পুর্ন অনুভবে ঝুলন্ত ব্রিজ এর জায়গাটুকু ঘুরে ঘুরে দেখি। ব্রিজের মাঝে দোল খাই। আশে পাশে পাহাঢ় আর প্রকৃতি দেখি। এখানে শিশু পার্কের মত ট্রেনে উঠার ব্যবস্থাও আছে। ট্রেনে উঠতে ৫০ টাকা লাগে পার পারসন। এটা একটু বেশী মনে হয়েছে।
ঝুলন্ত ব্রীজ আর প্রকৃতির অনুভবে অনেকটা সময় পার করে চলে যাই সিস্টেম রেস্টুরেন্টে। খাগড়াছড়ির অন্যতম ফেমাস রেস্টুরেন্টে। সেখানে মুরগীর মাংস, হাসের মাংস, ভর্তা, ডাল অনেক মজাদার। রাতের খাবার খাবো এখানে। এখানে ব্যম্বো চিকেন আর ব্যম্বো ফিস পাওয়া যায়। তবে আগের দিন অর্ডার দিতে হবে। আমরা আজ এখানে খাবো এবং অর্ডার দিয়ে যাবো ব্যম্বো চিকেনের। আপনারা আগের থেকে অর্ডার দিয়ে রাখতে পারেন ফোনে। তাদের কন্টাক্ট নাম্বারঃ ০৩৭১-৬২৬৩৪। অত্যন্ত তৃপ্তি নিয়ে রাতের খাবার শেষ করলাম। তারপর সেখানে কিছুক্ষন গল্প গুজব করলাম। অতি মনোরম পরিবেশ এবং সবার ব্যবহার অতি মিষ্টি। তারপর রাতে চলে আসি হোটেল এর নিচে। নিঝুম পরিবেশে প্রিয়জনের সাথে হাটি, চা খাই, সেখানের মানুষজনের সাথে গল্প গুজব করি আর পাহাড়ি প্রকৃতি অনুভব করি। রাতে আড্ডা আর গল্প এবং হোটেল এর বারান্দায় তারা দেখা এক অপার্থিব অনুভুতি।
২৭-১২-১৬ তারিখে ৭ টায় চলে যাই শাপলা চত্তর সেখানে সকালের নাস্তা করে চান্দের গাড়ি ঠিক করি। এখানে ২ রকমের গাড়ি পাওয়া যায়। জীপ, আর পিক আপ। জীপ এ বসা আরামদায়ক না তাই পিক আপ নেয়াটাই ভাল হবে। যেই উচু নিচূ রাস্তা সাজেকের পথে সেক্ষেত্রে সিএনজি আর মোটরবাইক এ যাবার কথা চিন্তাও করবেন না। যদি সাজেক গিয়ে ১ রাত থাকেন তাহলে চান্দের গাড়ি ভাড়া নিবে ৭১০০ টাকা আর ড্রাইভার কে খানাপিনা বাবদ আরো ১০০০ টাকা অর্থাৎ মোট ৮১০০ টাকা চান্দের গাড়ি বাবদ। আর যদি দিনে গিয়ে দিনে বেক করেন তাহলে চান্দের গাড়িকে ৫১০০ টাকা দিতে হবে। তবে দিনে গিয়ে দিনে আসলে সাজেক যাওয়া অর্থহীন। চান্দের গাড়িতে আরামে ১০/১২ জন যেতে পারবেন। সকাল ৮টার মধ্যে চান্দের গাড়ির ব্যপারটা ফয়সালা করে ফেলবেন। তার বেশী দেরি হলে আর্মি এস্কোর্ট মিস করবেন। আর সকাল ৮টার মধ্যে চান্দের গাড়ির সেখানে উপস্থিত থাকলে আপনাদের সাথে যাবার জন্য ছোট ছোট দল পেয়ে যাবেন। তবে আমরা কাউকে সাথে নেইনি। রিজার্ভ নিয়ে নিয়েছি। মোটামুটি স্বর্গীয় দৃশের মধ্যে দিয়ে ভয়ংকর বাক আর অকল্পনীয় উচ্চতায় যেতে যেতে আমরা ১২টায় পৌঁছে যাই সাজেকে। সবাইকে অনুরোধ করবো ড্রাইভারকে কে অনেক সতর্ক ভাবে গাড়ি চালাতে বলবেন। কারন রাস্তা অনেক উঁচু এবং বিপদজনক অনেক বাক আছে। তবে আশেপাশের প্রকৃতির বর্ননা দেয়া কোন লেখকের পক্ষেই সম্ভবপর নয়। আমরা সাজেক পৌঁছে আগের থেকে বুকিং দেয়া রিসোর্টে চেক ইন করি। অনেক রিসোর্ট আছে যার মান প্রায় সবার এক রকম।
                                                           মেঘের উপরে সাজেক
আমরা ছিলাম নিরিবিলি রিসোর্টে। ফোনে অবশ্যই এডভান্স বুকিং দিয়ে যাবেন। তাদের কন্টাক্ট নাম্বারঃ০১৮৬৬-০৩৫৮২৫। অনেক ভাল ব্যবহার। এক রুমের ভাড়া ২৫০০ টাকা। তবে একটু অনুরোধ করাতে ২২০০ টাকা রেখেছে। এক রুমে ২টা বেড। ৪ জন থাকা যাবে। এটাচ বাথ আছে। মোবাইল চার্য দেয়া যায় রাত ১১টা পর্যন্ত। তবু চেষ্টা করবেন পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যেতে। হোটেল এ চেক ইন দিয়েই চলে যাই খাবারের অর্ডার দিতে। কারন এখানে আগে ভাগে অর্ডার না দিলে খাবার পাবেন না। সামনেই কিছু হোটেল আছে। খাবারের দাম অত্যাধিক বেশী। ভাত,মুরগী,ডাল খেতে চাইলে ১৮০ টাকা পার পারসন। আর ডিম দিয়ে খেতে চাইলে ১০০ টাকা। খাবার খেয়ে তেমন মজা পাইনি। খাবার শেষ করে আশেপাশে একটু হাটি আর চা খাই আর স্থানীয়দের সাথে একটু গল্প গুজব করি। তারপর হোটেল এ গিয়ে একটু বিশ্রাম নেই। তারপর ৩:৩০ এ বের হয়ে পড়ি 
                                                              চান্দের গাড়ি
কাংলাক পাড়ার উদ্দেশে। চান্দের গাড়ি নিয়ে যায় সেখানে। তারপর ১০-১৫ মিনিট একটু ট্র্যাক করে চুড়ায় উঠি। আহা এই দৃশ্যের কোন সংজ্ঞা নেই। শুধু আছে অনূভব। চেষ্টা করবেন এখানে সূর্যাস্ত দেখতে। আমি অভাজন এই সুন্দরের সংজ্ঞা দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই।
তারপর আস্তে আস্তে পাহাড় থেকে নেমে আসি। তারপর চান্দের গাড়িতে করে হেলিপ্যড আসি। বিস্ময়ে হতবাক হেলিপেড এ দাঁড়িয়ে অপার সৌন্দর্য অবলোকন করি।ঘাসের মাঝে শুয়ে থাকি। তারপর একটু রাত হলে এখান থেকে বের হয়ে সাজেক মুল পয়েন্টে চলে আসি। এদিক সেদিক হেতে বেড়াই। তারপর দেখি বারবিকিউ করা হচ্ছে। সেখানে বসে পড়ি। বসে বসে সবার সাথে বারবিকিউ করা দেখি। প্রতি পিস ১০০ টাকা। সাথে পরটা, সিদ্ধ ডিম, চাপিলা মাছ আছে। খেতেও মজার। সেখানে অনেকটা সময় পার করে আরেকটু সামনে যাই। একটা সুন্দর চা, কফির দোকান পাই। সেখানে বসে চা খাই। অনেকে গিটার নিয়ে গান গাচ্ছিলো। বসে বসে গান শুনি। তারপর আস্তে আস্তে রিসোর্টে রওয়ানা দেই। রাতে কিছু ক্ষন গল্প গুজব করে ঘুমিয়ে পড়ি।
২৮-১২-১৬ তারিখ সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার হেলিপেডে যাই সুর্যোদয় দেখার অভিপ্রায়ে। ভোরের সাজেক অন্যরকম মাদকতা সৃষ্টি করে। কুয়াসা ভেঙ্গে আস্তে আস্তে মেঘ দেখা যায়। আমরা মেঘের উপর দাঁড়িয়ে মেঘ দেখি। এই শীতেও ভালোই মেঘ দেখেছি।তারপর হেটে আশে পাশের আরো কিছু দেখি। সাজেকের সব কিছুই সুন্দর। তারপর ৯:৩০ এর মধ্যে চান্দের গাড়িতে উঠে বসি। ১:৩০ এর মধ্যেই পৌঁছে যাই খাগড়াছড়ি। দুপুরে মনটানা হোটেল এ খাওয়া দাওয়া করে চলে যাই আবার hotel echochari in। এখানে রুম নিয়ে বিকাল পর্যন্ত একটু বিশ্রাম নেই। তারপর একটা অটোতে করে নিউজিল্যন্ড যাই। খুব অল্প সময় লাগবে সেখানে যেতে। তবে সেখানে দেখার কিছুই নেই। একটু চুপচাপ বসে সময় কাটাবার জন্য যেতে পারেন। তারপর এখানে কিছু সময় থেকে চলে যাই সিস্টেম হোটেল এ। সেখানে আমরা অর্ডার করে রেখেছিলাম ব্যম্বো চিকেন। সেটা দিয়ে রাতের খাবার খাবো। ব্যম্বো চিকেন দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে কিছুক্ষন হোটেল এর নিচে ঘুরাঘুরি করি, চা খাই, হোটেল এ বসে সময়টা উপভোগ করি।
২৯-১২-১৬ তারিখে হোটেল থেকে চেক আউট করে চলে আসি শাপলা চত্তর। সেখানে ঢাকা আসার বাসের টিকিট কাটি। রাত ৯টায় বাস। তারপর নাস্তা করি চিটাগং হোটেল এ। তারপর ১টা কমদামী হোটেলে শুধু ব্যগ রাখবো আর রাতে বাসে উঠার আগে ২ ঘন্টা বিশ্রাম নিবো সেজন্য ১টা সিঙ্গেল রুম নেই। ৬০০ টাকা ভাড়া। হোটেলের নাম নূর হোটেল। তারপর হোটেল থেকে ১১ টায় বের হই আর একটা সি এন জি ভাড়া করি। সে আমাদের আলুটিলা গুহা, বৌদ্ধ বিহার, টাওয়ার, রিসাং ঝর্না দেখাবে। বিনিময়ে তাকে ১০০০ টাকা দিবো। এই সব গুলো ১ রাস্তাতেই। তাই ঘুরতে কোন সমস্যা হবেনা। প্রথমে যাই আলুটিলা গুহা। টিকেট কাটতে হবে ১০ টাকা দিয়ে। আর মশালের দাম ১০ টাকা। আলুটিলা সুরঙ্গ পুরোটা পার হয়েছি। এ এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। সুরঙ্গ এক দিয়ে ঢুকবেন আর পুরোটা পার হয়ে আর এক দিক দিয়ে বের হবেন। তাহলেই সুড়ঙ্গের ফিল টা পাবেন।
                                      আলুটিলা গুহা
  আমাদের কে সুড়ঙ্গ পার হতে স্থানীয় এক বাচ্চা মেয়ে (দিপিলীকা) সহায়তা করেছে। যদিও কঠিন কিছু না তবে মেয়েটি আমাদের সাথেই ছিলো। আর এখানে মিষ্টি ডাব পাবেন। জোড়া ৫০ টাকা। এখান থেকে বের হয়ে চলে যাই বৌদ্ধ বিহার। সেখানে ৩০ মিনিট থাকি। তারপর যাই টাওয়ার এ। সি এন জি আপনাকে টাওয়ার এর মাথা পর্যন্ত নিয়ে যাবে। সেখানে ৩০ মিনিতের মত সময় কাটাতে পারেন প্রিয়জনের হাত ধরে। তার পর সেখান থেকে বের হয়ে যাই রিসাং ঝরনার উদ্দেশে। সি এন জি অনেক ভিতর পর্যন্ত যাবে, তারপর হেটে নামতে হবে। তবে সেখানেও মোটরসাইকেল আছে। আমরা হাটিনি। মোটর সাইকেলে করে নিচে নেমেছি। আপ ডাওন ১০০ টাকা নিবে পার পারসন। ঝর্নায় পানি একটু কম থাকলেও এখনো অনেক সুন্দর। ঝর্নার এখানে ৪০ মিনিটের মত থাকি। তারপর চলে আসি শাপলা চত্তরে। তখন বাজে বিকাল ৫টা। তারপর শুনি পাশে মেলা হচ্ছে। সেখানে নানান রকমের পিঠা পাওয়া যায়। বিশেষ করে মারমা পিঠার নাম শুনেছি। বিজয় মেলাতে গিয়ে মারমা পিথা, চিরুনি পিঠা খাই আর কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করি। তারপর ৭ টায় চলে যাই নুর হোটেলে। ২ ঘন্টার মত বিশ্রাম নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেই।
তাহলে চলেন দেখে নেই এক নজরে সব কিছুঃ
খাগড়াছড়িঃ 
 ১. হোটেল ইকোচারি (০৩৭১-৬১৬২৫, ০৩৭১-৬১৬২৬, ০১৮২৮-৮৭৪০১৪)
২. ঝুলন্ত ব্রিজ
৩. আলুটিলা গুহা
৪. বৌদ্ধ বিহার
৫. টাওয়ার
৬. রিসাং ঝর্না
৭. নিউজিল্যন্ড ( যাবার দরকার নাই তার বদলে কৃষি গবেষনা যেতে পারেন)
৮. সিস্টেম রেষ্টুরেন্ট (০৩৭১-৬২৬৩৪)
সাজেকঃ
১. নিরিবিলি রিসোর্ট (০১৮৬৬-০৩৫৮২৫)
২. কাংলাক পাড়া চুড়া
৩. হেলিপ্যাড
৪. রাতে বারবিকিউ
৫. চান্দের গাড়ি (জয়নাল ০১৮৬৫-৪৩২৮০০) এটা একটা জীপ তবে আপনারা সামনে গিয়ে নিলে অবশ্যই পিক আপ নিবেন।
বিদ্রঃ (খাগড়াছড়ি)
১. আপনি ইচ্ছে করলে অনায়াসে খাগড়াছড়ির উল্লেখিত স্থান গুলো ১ দিনে ঘুরে শেষ করতে পারবেন।
২. খাগড়াছড়ি তে সব অপারেটরের নেটওয়ার্ক আছে।
৩. শনিবার আর সোমবার রাত পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে ইলেক্ট্রিসিটি থাকেনা। তাই সেভাবে মোবাইল চার্য দিয়ে রাখবেন।
৪. বিকাশ আছে। 
বিদ্রঃ (সাজেক)
১. সাজেকে রবি আর টেলিটক নেটওয়ার্ক আছে কিন্তু টেলিটকের নেটওয়ার্ক তত শক্তিশালী না।
২. সাজেকে নিরিবিলি রিসোর্টে ব্যটারি দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করেছিল তবে সেটা রাত ১১ টা পর্যন্ত। তবুও সেখানে বিদ্যুতের আশা না করাই ভালো।
৩. বিকাশ এর দোকান আমার চোখে পড়েনি। 
লেখকঃ Sohag Tamzid

Saturday, February 25, 2017

Nafakhum..

নাফাখুমঃ
 
 
২৯/১১/২০১৬-রাতে আমরা আমাদের ৫ জনের একটি দল নিয়ে কলাবাগান থেকে বান্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি।
বাস-shamoli poribahan (Non-AC)
Departing time- 23:00
Per ticket - 620 tk

৩০/১১/২০১৬- প্রথম দিন:

* বান্দরবন বাসস্ট্যান্ডে নামি সকাল 7:30 এর দিকে। সেখানে hotel Hill view তে নাস্তা করি। 350 tk র মত নাস্তার বিল হয়েছিল। চান্দেরগাড়ি ঠিক করাই ছিল। 8:30 এ যাত্রা শুর করলাম থাঞ্ছির উদ্দেশে। পথে চিম্বুক, নীলগিরিতে নেমে কিছুটা সময় ছিলাম। থাঞ্ছিতে সীমান্ত অবকাশে পৌছাই 3:30 এর দিকে। বিকাল আর রাতে ওইখানেই ছিলাম। পাহাড়ের উপর থাকে সূর্যাস্তটা ছিল অদ্ভুত সুন্দর। বুকিং করে যাবেন।
Contact no: 01550553997
Per night cost : 2000 tk+500 tk (2+1)
3500 tk (VIP)
Meal cost : Around 250 tk per person
Boat cost : 4000 tk (5-6 person)
Online এ বুকিং দিতে পারবেন। ওরাই আপনাকে নৌকা ভাড়া করে দিবে আর গাইড দিয়ে দিবে রেমাক্রি পর্যন্ত। রাতে থাঞ্ছি বাজারে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে ব্রিজে গেলাম তারা গোনার জন্য। অনেকটা সময় ছিলাম সেখানে।


০১/১২/২০১৬- দিতীয় দিন:

* নাস্তা করে ঘাট থাকে নৌকায় উঠতে উঠতে তখন বাজে 7:40।এবারের গন্তব্য নাফাখুম। এই পথের ভ্রমণটা ছিল খুবই রোমাঞ্চকর। যাওয়ার পথে রাজা পাথর আর তিন্দু বাজার পরবে। রেমাক্রি পৌছাতে পৌছাতে আমাদের 9:30 এর মত বেজেছিল। ঐখানে লোকাল গাইড ঠিক করে আমরা আমাদের ট্র্যাকিং শুরু করলাম নাফাখুম এর উদে৸শ্যে। গাইড ভাড়া ৫০০ টাকা। 15-20 মিনিট হাটার পর কিছু আদিবাসীদের দোকান পড়বে। ডিম, কলা, পানি খেয়ে নিবেন ঐখান থাকে। ছবি তোলার জন্য খুব একটা সময় না নিলে 11:30 এর মধ্যে পৌঁছে যাবেন নাফাখুম। তারপর যা দেখবেন সেটি লিখে প্রকাশ করাটা কঠিন। ঝরনার দিকে যাবার পাথরগুলো স্বভাবতই অনেক পিচ্ছিল, কাজেই সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। 12:45 এর দিকে ফিরতি রাস্তা ধরলাম রিমাক্রির দিকে। 13:40 এর দিকে আমরা রিমাক্রি বাজারে পৌঁছে যাই। 14:00 এর দিকে নৌকায় উঠে থাঞ্ছি ঘাটে পৌছাই 3:30 এর দিকে। বাজারে খাওয়া দাওয়া করে, সোজা সীমান্ত অবকাশে সূর্যাস্ত । হাল্কা নাস্তা নিয়ে যেতে পারেন, কারণ রাতে আর নামতে ইচছা করবে না।

                                                                        নাফাখুম
 
* চান্দেরগাড়ি ভাড়া- বান্দরবন-থাঞ্ছি-বান্দরবন। ৭৫০০-৮০০০ টাকা। ১০-১১ জন বসতে পারবেন । দিতীয় দিন আপনার গাড়ির কোন দরকার হবে না। আপনি সেইভাবে কথা বলে নিবেন আর যাওয়ার পথে নীলগিরিতে থামলে ২৫০ টাকা টোল এবং জন প্রতি ৫০ টাকা লাগবে।
Contact no: kasem- 01859390525
Babu- 01557661399


০২/১২/২০১৬- তৃতীয় দিন:

* সকালে নাস্তা করে থাঞ্চি থাকে 8:50 এর দিকে চান্দেরগাড়িতে করে রওনা দিলাম বান্দরবনের উদ্দেশ্যে। মাঝখানে শৈলপ্রপাত এ থামেছিলাম কিছুক্ষণের জন্য। ঐখানে মাখানো আনারসটা বেশ মজার ছিল।11:30 এর দিকে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌছাই। সেখান থাকে Golden temple। এক থাকে দের ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবন শহরে ফিরে আসা সম্ভব। লোকাল অটোতে গেলে ২৫০ টাকার মত লাগবে আসা-যাওয়াতে। 13:00 টার দিকে পূর্বানীতে করে চট্টগ্রামের দিকে রওনা দিলাম। বাস ভাড়া- ১১০ টাকা। চট্টগ্রামে শাহ্‌ আমাতন ব্রিজের উপর থাকে কর্ণফুলী নদীতে সূর্যাস্তর খানিকটা দর্শন নিয়েছিলাম। চট্টগ্রামে খাওয়াদাওয়া করার জন্য Greedy Guts Restrurent এ গেলাম। সেখানে Seafood Paella খেয়ে ঢাকার বাসে উঠলাম। 18:30 র মধ্যে চট্টগ্রাম থাকে ঢাকার সব বাস ছেড়ে দেয়। আমরা 19:00 টায় ভাগ্যক্রমে ইউনিকের একটা বাসে পাই আর সেটা দিয়েই 1:30 র দিকে ঢাকা পৌছাই। বাস ভাড়া- ৪৮০ টাকা।
 
লেখকঃ Mostofa Meraj Pasha

Friday, February 24, 2017

হাকালুকি হাওড় ভ্রমণ

হাকালুকি হাওড় ভ্রমন:
  
                                                               হাকালুকি হাওর
বর্ষা এবং শীত উভয় ঋতুই সিলেটে ঘুরে বেড়ানোর জন্য উপযোগী। অন্যান্য দর্শনীয় জায়গাগুলোর সাথে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এশিয়া মহাদেশ তথা বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ হাকালুকি থেকে।
হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে অপূর্ব লীলাভূমি হাওরটি বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে অপরূপ দৃশ্যের। দেশের বৃহত্তম এই হাওর অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানিরও জলাভূমি। পূর্বে পাথারিয়া ও মাধব পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় পরিবেষ্টিত হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট-বড় ২৪০ টি বিল ও ছোট-বড় ১০ টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়। এই হাওরে বাংলাদেশের মোট জলজ উদ্ভিদের অর্ধেকের বেশি এবং সঙ্কটাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি পাওয়া যায়। পাঁচটি উপজেলা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওরটি সিলেট ও সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। হাওরের ৪০% অংশ বড়লেখা, ৩০% কুলাউড়া, ১৫% ফেঞ্চুগঞ্জ, ১০% গোলাপগঞ্জ এবং ৫% বিয়ানীবাজার উপজেলার অন্তর্গত। হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর। ২৩৮টি বিল নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওরের বিলগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বর্ষাকালে এই হাওরে ধারণ করে এক অনবদ্য রূপ। চারদিকে শুধু পানি আর পানির খেলা, বিস্তৃত জলরাশি এ হাওরের রূপ ঠিক যেন ভাসমান সাগর। আদিগন্তু বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। সে এক অপরূপ দৃশ্য। হাকালুকি হাওরে ৫২৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪১৭ প্রজাতির পাখি, এর মধ্যে ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি ও ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি। এছাড়া ১৪১ প্রজাতির অনান্য বন্যপ্রাণী, ১০৭ প্রজাতির মাছ, তন্মধ্যে ৩২ প্রজাতি বিভিন্ন পর্যায়ে বিপন্নপ্রায়। এছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ, জলজ ও স্থলজ ক্ষুদ্র অনুজীব।
                                                হাকালুকির পাখির মেলা 
 
শীতকালে এ হাওড়কে ঘিরে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে উঠে গোটা এলাকা। শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমিতে প্রায় ২৩৮ টি বিলের সমষ্টি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা পাখি পরিযায়ী হয়ে আসে। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মেলে। বিলগুলিতে প্রায় সারাবছর পানি থাকে। হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী ও পানাই নদী। এই বিলগুলি মৎস্য সম্পদের আধার। বছরে প্রায় ২৫০০টন মাছ উৎপাদন হয়। তবে যথেচ্ছভাবে মাছ ধরার কারণে দেশী জাতের রানী, তুরাল, রাঁচি, বাতাসি, গলদাচিংড়ি, বাঘমাছ, চিতল ইত্যাদি মাছ আর এখন হাওরে পাওয়া যায় না।হাওরে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি জলচর পাখির। শীত মৌসুমে ৪৮ প্রজাতির প্রায় ১ লাখ পাখি আসে। এসব অতিথি পাখির মধ্যে ভূতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, বালি হাঁস, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, রাজ সরালি, পান ভুলানি, কাস্তেচড়া, পানকৌড়ি.বেগুনী কালিম, মেটেমাথা টিটি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। হাওর এলাকায় বিল ইজারাদারদের দোচালা কুটিরগুলোয় দু‘চারজন পর্যটক থাকার জন্য চমৎকার।তবে অবশ্যই বিল মালিকের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। সবচেয়ে ভালো হয় বিল এলাকায় তাঁবু ফেলে রাত্রি যাপন। জোছনা রাতে তাঁবুতে যাপন, পাখি পর্যবেক্ষণ যে কোনও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে বিমোহিত করবে।
যেভাবে আসবেনঃ ঢাকা> বড়লেখা বাস ভাড়া (৩০০-৫০০) টাকা,বড়লেখা থেকে লোকাল সি,এন,জি করে কানোনগো বাজার জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা, কানোনগো বাজার থেকে লোকাল সি,এন,জি করে কুটাউরা বাজার জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা, কুটাউরা বাজার থেকে পাখি দর্শন টাওয়ার সি.এন.জি রিজার্ভ ৫০-৮০ টাকা,অথবা পায়ে হেটে যেতে পারেন রাস্তার শেষ সিমান্তে পাখি দর্শন টাওয়ার। বিকেল বেলা আসার পথে হাল্লা গ্রামের মরহুম মনোহর মাষ্টারের বাড়ি (পাখি বাড়ি) ঘুরে দেখতে পারেন অজশ্র পাখীর অভ্যাশ্রম... যেখান থেকে উপভোগ করতে পারেন হাকালুকির সৌন্দর্য...
চাইলে ঢাকা থেকে রাতের ১১.০০ বাসে এসে সারাদিন #মাধবকুন্ড #খাসিয়া পল্লি #মুনিপুরি তাঁতশিল্প #চা_বাগান #হাকালুকি ঘুরে আবার রাতের বাসে ঢাকা চলে যেতে পারবেন...
ভোর সকালে হোটেল উঠে কিছু সময় বিশ্রাম, বিকেল থেকে রাত্রে বাস ছাড়ার পূর্ব সময় পর্যন্ত থাকলেন... ১০০-২০০ টাকায় হবে...

লেখকঃ Msu Rana

Friday, February 17, 2017

Saint Martin..

সেইন্ট মারটিন :




বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ 'সেইন্ট মারটিন' এর অবস্থান বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ থানায়। টেকনাফ থেকেও প্রায় ৯-১০ কিঃ মিঃ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এর বুকে এই দ্বীপ এর অবস্থান। আয়তনে খুব বড় নয় এই দ্বীপ, ৮ বর্গ কিঃ মিঃ, আর লোক সংখ্যা প্রায় ৭০০০-৭৫০০ এর মতন।এই দ্বীপের সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই যে ব্যাপার টি চলে আসে, সেটি হচ্ছে এখানের প্রকৃতি আর তার নির্জনতা। খুব নির্জন আর কোলাহল মুক্ত কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য এই দ্বীপ অন্যতম, কারণ দ্বীপে কোন বাস, গাড়ি, মোটর চালিত কোন প্রকার যান নেই, এমন কি নিঝুম দ্বীপ বা কুয়াকাটার মত পাবলিক সার্ভিস দেয়ার মত মোটর বাইক ও চোখে পড়েনি। তাই অন্তত নির্জনতার মাঝে যখন কেও কোন মোহে হারিয়ে যাবে, হঠাত কোন গাড়ির হর্ন এর শব্দ এসে সব নষ্ট করে দেয়ার সম্ভাবনা একদম ই নেই এই দ্বীপে।সেইন্ট মারটিন দ্বীপ এর আদি নাম ছিল নার্জিল জাজিরা বা জিঞ্জিরা। জাজিরা থেকে জিঞ্জিরা শব্দের উৎপত্তি। জিঞ্জিরা শব্দের অর্থ উপদ্বীপ, আর নার্জিল অর্থ নারিকেল। এই দ্বীপ এ নারিকেল গাছের আধিক্য ছিল।এখনো নারিকেল এর জন্য এই দ্বীপ এখনো বিক্ষাত। আর এজন্যেই এই দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরা ও বলা হয়।ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে এই দ্বীপ এর বয়স ২০ লাখ বছর।দ্বীপ টি তে যারা হই হুল্লুড় করার উদ্দেশ্যে ভ্রমণে যাবেন, তারা কিছু টা হতাশ হতে পারেন, কারণ এমন প্রবালে বসে সূর্যাস্ত দেখার সাথে অন্তত হিন্দি গান ছেড়ে কোমর দোলানো ব্যাপার টা যাবে না। বরং নির্জন বসে কিংবা সমুদ্রের পাড়ে প্রবালে সঙ্গীদের সাথে বসে হেড়ে গলায় গাওয়া গান টা ই সৃতির পাতায় রয়ে যাবে।

 কি কি দেখবেনঃ
 সেইন্ট মারটিনে আলাদা করে দেখার মত কিছু আলাদা করা কঠিন, কারণ পুরো দ্বীপ টি ই একটি মিস্ট্রি।।
ছোট একটি দ্বীপ। চার পাশে সমূদ্র। মন মাতানো সূর্যাস্ত, বাতাস আর সমূদ্রের গর্জন যা প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন গল্প শুনিয়ে যাবে আপনাকে। এর বাইরেও তেমন কিছু খুঁজতে চাওয়া টা-ও অন্যায় হবে।
 তারপরও 'ছেরা দ্বীপ' টা মূল দ্বীপ থেকে ভাটার সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যেটি পুরোপুরি প্রবাল এর। সেখানে যেতে পারেন বোটে করে যা মূল যেটি থেকে সকাল ৮ টা থেকে ছাড়ে। তবে খুব ভোরে ভাটার সময় হেটেও যাওয়া যায়, তারপর আবার দুপুরের কিছু সময় আগে আবার যখন ভাটা পড়বে, তখন হেটে ফেরত আসা যায়।
আর রাতে অবশ্যই জেলেদের মাছ ধরার ট্রলার প্রস্তুত করার ব্যাপার টা দেখতে মিস করবেন না, যদিও তা মাঝ রাতেই করেন তারা।
আর মূলত এমন যায়গা গুলোতে মানুষের নিজের উপর নির্ভর করে, তাই আপনি আপনার মত করে সেখানে যাবার পর নিজের প্ল্যান করে নিতে পারবেন।



                             Arial panaroma of Saint martin

 কি কি খাবেনঃ
 * সেইন্ট মারটিন কে নারিকেল জিঞ্জিরা বলার কারণ ই হল এই দ্বীপে প্রচুর পরিমাণ ডাব পাওয়া যায়, যার স্বাদ অনন্য, আর দেখতেও সাধারণ ডাবের চেয়ে দুই বা তিন গুণ বড় ও হয়, আবার দাম ও হয় তুলনামূলক কম। তাই এই জিনিস খুব কম মানুষ ই মিস করতে চাইবেন।
* সামুদ্রিক মাছ, কাকড়া, লবস্টার এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ। (কোরাল, সুন্দরী, ইলিশ, রূপচাঁদা, চিংড়ি বেশি বিক্ষাত)
* শুটকি মাছ যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই দ্বীপ শুধু শুটকির জন্যেই আদর্শ দ্বীপ হয়ে যেতে পারে, কারণ এখানে অনেক প্রকারের একদম ফ্রেশ শুটকি পাওয়া যায়।
* পাশেই যেহেতু মায়ানমার, সেহেতু সেই খানে তৈরি অনেক প্রকার আচার যা ইতিপূর্বেই মানুষের মন জয় করে নিয়েছে, তা মোটামুটি সহজলভ্য সেইন্ট মারটিনে।

 কি কি করবেন নাঃ
  - প্রথমেই যেই কাজ টি করবেন না, সেটি হচ্ছে সেইন্ট মারটিন থেকে আসার সময় সৃতি হিসেবে অইখানের প্রবাল, শামুক বা অন্য প্রাকৃতিক কোন জিনিস নিয়ে আসবেন না।
- অযথা চিৎকার চেঁচামেচি করা থেকে বিরত থাকবেন, কারণ মনে রাখবেন সেইন্ট মারটিন আমাদের জন্য ভ্রমণের যায়গা হলেও সেখানে প্রায় ৭০০০-৭৫০০ মানুষের বসত। তাই লোকাল মানুষদের যেন কোন কারণেই আমাদের প্রতি কোন খারাপ ধারণার উদ্রেগ না হতে পারে, বা তারা যেন বিরক্ত না হন,সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
- সাঁতার না জানলে গোসলের সময় খুব বেশি দূরে কোনভাবেই যাওয়া যাবে না, আর অবশ্যই সমূদ্রে নামার আগে জোয়ার- ভাটার ব্যাপারে জেনে নামবেন।
- ১১ টি ডেঞ্জার জোন আছে সেইন্ট মারটিন এ, নামার আগে সেই জোন গুলো নিশ্চিত হয়ে নিবেন।
- প্রবাল অনেক ধারালো হয়, তাই পানিতে নামার সময় অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

 কিভাবে যাবেনঃ
 কেও যদি ঢাকা থেকে সরাসরি সেইন্ট মারটিন যান, তাহলে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ, ইউনিক পরিবহন এবং সেইন্ট মারটিন পরিবহণ সহ বেশ কিছু বাস সরাসরি টেকনাফ ঘাটের উদ্দেশ্যে রাত ৭ঃ৩০-৮ঃ৩০ এর মধ্যে ছেড়ে যায়। তারপর ঘাট থেকে কয়েকটি শিপ ছাড়ে সেইন্ট মারটিনের উদ্দেশ্যে সকাল ৯ঃ৩০ মিনিটে। যা দ্বীপে পৌছায় ১১ঃ৩০-১২ টার মধ্যে। যা আবার ব্যাক করে বিকেল ৩ টার দিকে সেইন্ট মারটিন থেকে। তবে শিপ অফ সিজনে (এপ্রিল এর মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) শিপ চলে না, তবে ট্রলার ছাড়ে সেইন্ট মারটিনের উদ্দেশ্যে সারা বছর ই। তবে শিপ রিজার্ভ করা হলে আলোচনা সাপেক্ষে বছরের যে কোন সময় ই চলতে পারে।
আর কেউ যদি কক্সবাজার থেকে যান, তাহলে সকালে টেকনাফের উদ্দেশ্যে বাস, মাইক্রো, চান্দের গাড়ি ছাড়ে। অনেক প্যাকেজ অফার ও থাকে । যেই হোটেলে থাকবেন কক্সবাজারে, তাদের কাছে বললেও তারা ব্যবস্থা করে দিবে। তবে তাদের কাছে শুধু ট্রান্সপোর্ট এর সুবিধা ও আলাদা করে নেয়া যায়। যেমন শিপ এর টিকেট আর সকালে টেকনাফ যাবার সহায়তা টুকু নেয়া কেবল।
কিভাবে বুকিং করবেনঃসবচেয়ে ভালো হয় নিজের মত বুকিং করা। বাসের টিকেট ফকিরা পুল সহ প্রায় সব কাওন্টার থেকেই পাওয়া যায়। শিপ এর জন্য ঢাকায় অনেক গুলো ট্রাভেল এজেন্ট নির্ধারণ করা আছে শিপ গুলোর, তাদের কাছ থেকে কাটতে পারেন, অথবা অন্য লোকাল ট্রাভেল এজেন্ট রা ও টিকেটের ব্যবস্থা করে দেয়, যা আপনার আশে পাশেই খোঁজ করলে পেয়ে যাবেন।০১৮১৭১৪৮৭৩৫, এটা কেয়ারি সিন্দাবাদের অফিসিয়াল নাম্বার।০১৭১৪৬৩৪৭৬২ এটা কুতুবদিয়া শিপ এর অফিসিয়াল নাম্বার।গ্রীণলাইন এর ও শিপ আছে, ০২৯৩৩৯৬২৩, ০২৯৩৬২৫৮০ গ্রীণলাইন এর অফিসিয়াল নাম্বার। যে কোন বাসের কাওন্টারে যোগাযোগ করলে তারা বাস সহ শিপ এর প্যাকেজ করে দেয়, শুধু শিপ এর টিকেট ও বিক্রি করে তারা।আর হোটেল বা রিসোর্ট সেইন্ট মারটিনে যেয়ে দামাদামি করে নেয়া ই ভালো, তবে প্রথম বার হলে আগে থেকে পরিচিত কারো রেফারেন্স নিয়ে বা বুক করে যেতে পারলে ভালো হতে পারে।তবে ফুল সিজন গুলোতে সেইন্ট মারটিন এ মনের মত হোটেল বুক না দিয়ে গিয়ে পাওয়া টা কষ্টকর। তাই আগে থেকে বুক করে যাওয়া টা ভালো। আর ১৬ ডিসেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর, ৩১ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২৬ মার্চ সহ অন্য তিন দিনের টানা বন্ধ গুলোতে কোন প্রকার হোটেল পাওয়া ই কষ্টকর হয়ে যায়। তাই এগুলো অনেক আগে থেকেই বুক করে নিশ্চিত করে রাখবেন।আর গুগল এ সার্চ করলেই সেইন্ট মারটিনের অনেক রিসোর্ট বা কোম্পানি বা শিপ এর লিঙ্ক পেয়ে যাবেন। সেইন্ট মারটিনের রিসোর্ট বা ট্রাভেল রিলেটেড কোম্পানি/ গ্রুপের লিঙ্কঃসেইন্ট মারটিন নিয়ে স্পেশালি যারা কাজ করছেন, তাদের নাম, নিঙ্ক, কন্টাক্ট এখানে আস্তে আস্তে যোগ হতে থাকবে, তবে তার আগে অবশ্যই তাদের সার্ভিস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।বাজারের মধ্যে কিছু হোটেল রয়েছে, যাদের রুমের কুয়ালিটি কিছুটা ভাল, তবে ব্লু ম্যারিন (০১৮১৫৬৩২০৩৭, ০১৭১৩৩৯৯০০১) হোটেল ছাড়া অন্য গুলোর তেমন কোন আলাদা আঙ্গিনা বা বসে গল্প করার যায়গা নেই।সেন্ড শোর (০১৮১৫৬৪৮৭৩১), সি ইন হোটেল গুলোর রুম কুয়ালিটি ভালো।আর বিচ এর পাড়ের হোটেল গুলোর রুমের কুয়ালিটি তত ভাল হয়না (ঝড়, জলোচ্ছাস এর কারণে করা হয়না মূলত),তবে সেখানে আপনার চমৎকার সময় কাটবে। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই রয়েছে রিসোর্ট সুবিধা, রয়েছে হেমক, বিচ চেয়ার, বিচের পাশে বসে খাওয়ার জন্য ওপেন ডাইনিং সুবিধা, রয়েছে তাবু খাটিয়ে থাকার ব্যাবস্থা ও।রয়েছে বার-বি-কিউ এর সুবিধা ও।বিচ এর পাড়ে রয়েছে সমুদ্র বিলাস, ব্লু ল্যাগুণ (০১৭২৩৫৮৬৮৭৭, ০১৮১৮৭৪৭৯৪৬), বাগানবাড়ী বিচ রিসোর্ট (০১৬৭৩৯১৬৯২০),  লাবিবা বিলাস(০১৭১৪৬৩৪৭৬২), অবকাশ, পান্না রিসোর্ট (০১৮১৬১৭২৬১৫), ড্রিম নাইট (০১৭১০৩৯০২৫১), সিমানা পেড়িয়ে(০১৮১৯০১৮০২৭),প্রাসাদ প্যারাডাইস(০১৭৯৬৮৮০২০৭), সমুদ্র কুটির, নীল দিগন্ত (০১৭৩০০৫১০০৪), কোরাল ভিউ (০১৯৮০০০৪৭৭৮) রিসোর্ট।

 যাওয়ার প্ল্যানঃসেইন্ট মারটিন যারা যাবেন, অন্তত দুই রাত থাকার মত চিন্তা করে যেতে পারলে ভাল একটি ভ্রমণ হতে পারে আপনাদের। তবে সময়, অর্থ আর ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে সেটা এক দিন থেকে অনেক দিন পর্যন্ত হতে পারে এই ভ্রমণের সময় কাল। রাত ৭ঃ৩০-১১ টা পর্যন্ত সুবিধা অনুযায়ী বাসে উঠলে পরের দিন সকালে নামিয়ে দিবে টেকনাফ ঘাট এ। সেখান থেকে শিপ এ করে দ্বীপে পৌছাতে ১১ঃ৩০-১২ টা বাজবে। তারপর হোটেল এ গিয়ে কাপড় চোপড় ছেড়ে সমুদ্রে নেমে পড়তে পারেন, গোসল সেরে এসে দুপুরের খাবার। বাকি দিন টা নিজের ইচ্ছা মত কাটাবেন, যেভাবে আপনার ভালো লাগতে পারে। কারণ ততক্ষণে পুরো দ্বীপ টি ই আপনার হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দিন সকাল টা তে সূর্য উদয় দেখতে পারেন। তারপর ছেরা দ্বীপ এর উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতে পারেন। ফিরে আসতে দুপুর হবে ছেরা দ্বীপ থেকে। তারপর দুপুরের খাবার খেয়ে ফিরতি শিপ এর জন্যে বের হয়ে যেতে হবে, যদি এক রাত থাকেন ।আর একাধিক রাত থাকলে আপনি পুরো দ্বীপ টা নিজের মত করে রিলাক্সে ঘুরে দেখতে পারবেন, চাইলে এক টি রাত মাছের বার বি কিউ ও করতে পারবেন। পারবেন রাতের বেলায় মাছ ধরতে যেতে। নিজের মনের মত করে,যা ইচ্ছে।।

 খরচঃবাস নন এ সি- ৯০০ টাকা, এসি ১৫৫০ টাকা ।তবে আসার টিকেট সেইন্ট মারটিন থেকে কাটলে প্রতি টিকেটে ৩০-৫০ টাকা তারা চার্জ হিসেবে বেশি রাখবে।শিপ- নিচ তলা ৫৫০ টাকা, দো- তলা ওপেন ডেক ৭০০/৭৫০ টাকা, ভি আই পি ৮৫০/৯০০ টাকা।আর শিপের টিকেট এর মুল্য আসা এবং যাওয়া সহ এইটা ধরা হয়। কেও যাবার টিকেট নেয়ার সময় বলে নিতে হয় কবে ব্যাক করবেন, সেইভাবেই ফেরার টিকেট শিপ দেয়া হয়। গ্রীনলাইনের টিকেট ওয়ান ওয়ে ও দেয়, ৫০০/৬০০ দুই ধরনের ক্যাটাগরি আছে। আসা যাওয়া ১০০০/১২০০রিসোর্ট- রিসোর্ট এর ভাড়া সিজন এর সময় কোন নির্দিষ্ট নেই তেমন, ট্যুরিস্ট এর উপর নির্ভর করে রিসোর্ট মালিক রা ভাড়া বাড়ায় কমায়। তবে সিজনে ১৫০০-২০০০ টাকার কমে রুম পাওয়া কষ্ট সাধ্য, যদি না সেখানে পরিচিত কেও থাকে। আর অফ সিজনে ৭০০-১২০০ টাকায় পাওয়া যাবে সি রিসোর্ট গুলো। আর রিসোর্টের প্রতি রুমে ৪ জন করে আরামে থাকা যায়।আর যদি কেও খুব আয়েশ খুঁজেন, তাদের জন্য একটু ঝামেলা আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে সেইন্ট মারটিন দ্বীপ এ বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটরে চলে, তাই এসি রুম পাওয়া টা কঠিন। তবে রিলাক্স এর রুম আছে অবশ্যই, যাদের মাণ ভালো। ২৫০০ থেকে শুরু করে অনেক টাকায় রুম পাওয়া যায়।খাবার- যদি কেও রিসোর্ট গুলো তে খায়, তাইলে ১৫০টাকা থেকে শুরু করে চাহিদা আর আইটেমের উপর ভিত্তি করে অনেক প্যাকেজ থাকে। হোটেলে খেলেও এর চেয়ে কম হয় না, বরং অনেক ক্ষেত্রে হোটেল গুলো বেশি চার্জ করার সুযোগ খুঁজে। তবে প্রথম বেলা যেদিন যাবেন, সেদিন রিসোর্ট বা হোটেলে খাওয়া ভাল। বেশি মানুষ হলে বাজারে গিয়ে ভাল খাবার পাওয়া কঠিন। পরের বেলা থেকে যাচাই করে স্বীদ্ধান্ত নিয়ে খেতে পারবেন।এখন কত বেলা খাবেন,সেটার উপর ভিত্তি করে আপনি আপনার বাজেট নির্ধারণ করে ফেলতে পারেন।ছেরা দ্বীপ- ছেরা দ্বীপ যাবার জন্য ট্রলার ভাড়া ১৬০-২০০ টাকা করে, আর রিজার্ভ নিলে ১৫০০-৪৫০০ টাকা নেয় নৌকার আকার আর যাত্রীর উপর ভিত্তি করে। তবে অনেক গ্রুপ,কোম্পানি সেইন্ট মারটিনের জন্য প্যাকেজ ও ছাড়ে বিভিন্ন সময়, সেটি ও একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।  একটি প্রধান বিষয়, যেটি নিয়ে অনেকটা ঝামেলা পোহাতে হয়ঃযেহেতু শিপ সেইন্ট মারটিন এ পৌছায় ১২ টার মধ্যে, তাই ট্যুরিষ্টদের রিসোর্ট বা হোটেলে পৌছতে ১২ঃ৩০-১ টা বাজে। আবার অন্য দিকে শিপ সেইন্ট মারটিন থেকে ছেড়ে যায় ৩ টায়, তাই এই ৩-৩ঃ৩০ ঘন্টার একটা ঝামেলায় পড়তে হয় রিসোরট/হোটেল মালিকদের, আগেরদিনের ট্যুরিষ্টদের, নতুন ট্যুরিষ্টদের প্রায় সবার ই।এখানে সবার মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছাড়া এই সমস্যার সমাধান নেই।প্রথমত প্রায় প্রতিটি হোটেল/রিসোর্টে চেক আওট টাইম ১১-১১ঃ৩০ হলেও কেও ঠিক সময়ে রুম ছাড়তে চান না, অথচ আগের দিন রুম এ ঢুকতে দেরি হউয়ায় সে নিজেই মন খারাপ করেছিল !!আসলে দিনের একটি টাইমেই শিপ আসে আর এক টি টাইমেই সব শিপ ছেড়ে যায়, তাই মাঝের এই ৩-৩ঃ৩০ ঘন্টা সময় নিয়ে ঝামেলা থেকেই যায়।আপনারা যা করতে পারেন, যদি ফিরে আসার দিন সকালে ছেড়াদ্বিপ যাবার প্ল্যান থাকে, তাহলে ভোরে চলে যাবেন, আর যাবার আগে ব্যাগ গুছিয়ে হোটেল এর লবি/ মালিকের কাছে দিয়ে যাবেন। এতে করে নতুনদের জন্য রুম পরিষ্কার করার সময় পাওয়া যায়। তখন আপনারা ফিরে এসে এক্সট্রা ওয়াশরুম এ ফ্রেশ হয়ে খেয়ে সহজেই বের হয়ে যেতে পারবেন। তাতে করে এই সমস্যা থেকে কিছুটা পরিত্রান পাওয়া যাবে।

শেষ কথাঃযদিও বর্তমান ট্রাভেলার রা অনেক সচেতন, তারপরও আমরা অনেক যায়গায় ভ্রমণ করতে গেলে প্রকৃতির অনেক ক্ষতি করি বিভিন্ন ভাবে। তাই আমার একটাই অনুরোধ আমরা প্রকৃতি যেমন আছে, তেমন টাই যেন রেখে আসি। যদি পারি ভালো কিছু করতে ,তাহলে স্বাদুবাদ থাকলো, তবে অন্তত কোন প্রকার ক্ষতি যেন না হয় আমাদের দিয়ে।

লেখকঃ ইমরানুল আলম

Phone numbers of different hotels and guest houses in COX'S BAZAR


1.Hotel Shaibal Address: Cox's Bazar Phone: 880-341-63274 Fax: 880-341-64202
2.Phanthonibash Phone: 880-341-64703 Fax: 880-341-62223
3.Seagull Hotels Ltd. Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: 0341-62480-91 Fax: 88-0341-64436 Email: seagull@gshakti.com 
4.Motel Upal Address: Cox's Bazar Phone: 880-341-64258
5.Motel Probal Address: Cox's Bazar Phone: 880-341-63211,62635-7
6.Hotel Sea-Crown Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64795 
7.Hotel Sea-Palace Ltd. Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63692/63792
8.Hotel Sea-Queen Address: Main Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63789/
9.Hotel Saimon Address: Sahid Sharani Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63900/63901/63902/63903/63904
10.Daffodil Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62544
11.Nitol Bay Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63677/64278
12.Hotel Panoa Address: Laldighir Par, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63282/64382
13.Uni Resort Ltd. Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63181/63191 
14.Saint Martin Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62862
15.Haque Guest Inn Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64923
16.Hotel Sea-Land Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64922
17.Hotel Nishitha Address: Anderson Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64024
18.Hotel Sea-Heaven Guest Home Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63787
 Sea-Beach Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-68281-5 
19.Hotel Palongki Address: Laldighir Par, Cox's Bazar Phone: +88-0341-66367/63597 
20.Taher Bhaban Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63068
21.Diamond Palace Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63642
22.Sohag Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62561
23.Dream Castle Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64628
24.Mohammadia Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62629
25.Shamim Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62325
26.Sarmom Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64740
27.Quality Home Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64882/64609 
28.Abakash Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64744
29.Sugandha Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62466
30.Hotel Ranchi Pvt. Ltd. Address: Sahid Sharani Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64452/63455 
31.Hotel Sea-Bird Address: Main Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63656
32.Blue Ocean Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63207/62105 
33.Hotel Banu Plaza Address: Burmese Market, Main Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64097
34.Hotel Silvia Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62495
35.Hotel Garden Address: Anderson Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63589 
36.Hotel Sunmoon Address: Motel Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63231/63031
37.Hotel Lodge Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62009
38.Hotel Al Hera Address: Main Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62325
39.Hotel Al Salam Address: Main Road,Jhilonja, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62068 
40.Hotel Sagar Gaon Address: Jhaotola, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64248 
41.Hotel Nurani Address: Bazar Ghata, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63995 
42.Hotel New United Address: Laldighir Par, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63753
43.Hotel Sea -Land Address: Motel Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62133 
45.Hotel Shaheraj Address: Bazar Ghata, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63554
46.Hotel Niribili Address: Sahid Sharani Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63202/64324
47.Urmi Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63666/64121 
48.Hotel Sea-View Address: Jhinuk Market, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63518/64491 
49.Zia Guest Inn Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63925
50.Zia Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64701/64753
51.Hotel Bay-view Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64787/63127 
52.Hotel International plaza Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-620151
53.Albatros Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64684 
54.Lemich Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64706 
55.Honeymoon Resort Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63505
56.Hotel TajSeba Address: Behind Thana Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64360 
57.Hotel Mishuk Address: Laboni Point, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64320
58.Hotel Avisar Pvt. Ltd. Address: Kolatali Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63061
59.Hotel Renaissance the Grand Address: Main Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64790
60.Hotel Coral Reef Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64469 
61.Sea Hill Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63088 
62.M S Guest House Address: Kolatali, Cox's Bazar Phone: +88-0341-63930
63.Hotel Kollol Ltd. Address: Sea Beach Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-64748 
64.Bypass Guest House Address: Bypass Road, Cox's Bazar Phone: +88-01819-721813
65.Nishan Guest House Address: Kolatali Road, Cox's Bazar Phone: +88-0341-62629 
66.Hotel Sea Alif Address: Kolatali Road, Cox's Bazar phone: +88-01715-755112
67.Leguna Beach Hotel Address : Kolatali Road, Cox's Bazar phone : +88-01710-848912
68.Iqra Beach Hotel Address : Kolatali Road, Cox's Bazar Phone : +88-01732-216677

Wednesday, February 15, 2017

Napittachora tour

টিপরাখুম
কুপিকাটাখুম
'এডভ্যাঞ্চার' একটি নেশার নাম।একবার নেশা লেগে গেলে ছেড়ে দেওয়া অনেক কঠিন।এমনি অনেক নেশা লুকিয়ে আছে চট্টগ্রামের মীরশ্বরাই-সীতাকুন্ড রেঞ্জের আনাচে কানাচে।আজ বলা যাক 'নাপিত্তছড়া' ঝর্নার কথা।
বাঘবিয়ানি
যেভাবে যেতে হয়:
ঝিরিপথ
চট্টগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে কদমতলী শুভপুর বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে।বারৈয়ডালা গামী উত্তরা বা চয়েজ নামক দুইটি বাসের যেকোন একটি তে উঠে মীরশ্বরাইয়ের নয়দুয়ারি বাজার নামতে হয়।বাস ভাড়া আনুমানিক ৫০/৮০ টাকা। ঢাকা থেকে আসতে গেলে আপনাকে চট্টগ্রাম গামী গাড়িতে উঠতে হবে।ভাড়া হয়ত চট্টগ্রাম যেতে যা লাগে তাই দিতে হবে।আপনার ভ্রমনটাকে সংকটমুক্ত করতে একজন গাইড ভাড়া করতে পারেন।গাড়ি থেকে নামলেই  রাস্তার পাশেই কয়েকটা দোকান পাবেন। ওখানেই আপনি গাইড পেয়ে যাবেন।সেখানে নাস্তা সেরে ফেলতে পারেন। গাইড বয়সভেদে ৩০০/৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।দোকানগুলার পাশে দিয়েই গ্রামের রাস্তা চলে গেছে। ওখান দিয়েই হাঁটা শুরু করুন। নয়দুয়ারি গ্রাম হয়ে টিপরা পল্লীর পাশ দিয়ে হেটে যেতে হয় ঝিরিপথ ধরে।পথে অনেক ছোটখাট খাদ টাইপের জায়গা আছে যা
গাইডের সাহায্য নিয়ে এড়িয়ে যেতে পারবেন।স্বাভাবিক গতিতে এক ঘন্টা হাটলে প্রথম ঝর্নায় পৌছা যাবে।প্রথম ঝর্নার নাম 'টিপরাখুম'।ঝর্নার বাম পাশ দিয়ে গাছের শিকড় বাকল ধরে উপরে উঠার জায়গা আছে।উপরে উঠেই পাওয়া যাবে প্রথম ঝর্নার উৎস 'কুপিকাটাকুম' ঝর্না।ঝর্নার তলদেশ প্রায় ৬০/৭০ ফুট গভীর।এই জায়গা টা যতটা সম্ভব পরিহার করতে চেস্টা করবেন। এইখানে নামার দুঃসাহস ও করবেন না।

কুপিকাটাকুমের ডান দিকে পাহাড়ে উঠার সিড়ি আছে।অই সিড়ি ধরে উপরে উঠতে হয়।ভালই উপরে উঠতে হবে।তারপর আবার হাঁটা শুরু করবেন। প্রায় আধা ঘন্টা পাহাড়ী পথ আর ঝিরি ধরে হাটলে 'বাঘবিয়ানি' ঝর্নায় পৌছানো যায়।এই ঝর্না অনেকটা রাঙ্গামাটির শুভলং ঝর্নার মত..!!


                                                                      বাঘবিয়ানি



                                                                 নাপিত্তাছড়া ঝর্না


অইখান আবার পিছনে ফিরে আসতে হয়।প্রায় ২০ মিনিট পিছনে অর্থাৎ আগের পথে ফেরত আসলে হাতের ডানদিকে আরেকটি ঝিরিপথ পাবেন যা পিছলা এবং বড় পাথরে ভরা।পথটা কিছুটা সঙ্কীর্ণ,
সামান্য পা ভড়কালেই ভাল চোট পাওয়া যাবে ,সুতরাং একটু সাবধানে চলতে হবে।
ঝিরিপথ ধরে প্রায় আধা ঘন্টা হাটলে 'নাপিত্তছড়া 'ঝর্নায় পৌছানো যায়।এটাই এই ট্রেইলের শেষ ঝরনা।অনেক সময় গাইডরা এইদিকে নিয়ে যেতে চায় না,বলে যে ওইদিকে তেমন কিছু নাই বা জাস্ট ঝিরিপথ আছে আর কোন ঝর্না নাই।বাট আপনার এই নাপিত্তাছড়া ভ্রমণ কে নিশ্চয়ই আপনি অসম্পূর্ণ রাখতে চাইবেন না।সুতরাং গাইডকে বাধ্য করুন অই পথে আপনাকে নিয়ে জেতে।হয়ত কিছুটা সংকীর্ণ পথ,বাট একেবারে না চলার মত না।জাস্ট একটু সাবধানে চললেই হবে। ফিরার সময় আরেকটা পথ ব্যবহার করা যায় যা গাইড আপনাকে দেখিয়ে দিবে। গাইড না নিলে যে পথে আসবেন অই পথ ধরে ফিরতে পারবেন।

কি খাবেনঃ
ওখানে পাহাড়ের ভিতরে কোন খাবারের দোকান নাই।সুতরাং যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের দোকান থেকে নাস্তা সেরে নিন এবং খিদা লাগলে খাওয়ার জন্য কিছু শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন।
ট্রাকিং শেষে খাবারের জন্য আপনাকে নয়দুয়ারি বাজার ফিরতে হবে।ছোট ছোট অনেক দোকান আছে যেখানে ১০০ টাকায় ভর্তা,ডিম,মাংস দিয়ে ভরপেট খেতে পারবেন।চট্টগ্রাম থেকে গেলে আসা+যাওয়া ৮০*২=১৬০+খাবার ১০০টাকা=২৬০ টাকা খরচ হবে।


কিরকম খরচ পড়বেঃ
চট্টগ্রাম থেকে গেলে আসা+যাওয়া ৮০*২=১৬০+খাবার ১০০টাকা=২৬০ টাকা খরচ হবে।তবে সিজন অনুযায়ী আর গারি অনুযায়ী গাড়ি ভাড়া কম বেশি হতে পারে।
ঢাকা থেকে গেলে আপনার গাড়ি ভাড়া বাদে এক্সট্রা আর জাস্ট গাইড এবং খাবার খরচ লাগবে।৫/৬ জন মিলে গেলে গাইড বাবদ মোটামুটি ৫০\৬০ টাকা খরচ হবে।গাইড নিলে খুবই ভাল হয় তবে আপনাদের সাথের কেও যদি আগে এসে থাকেন সেক্ষেত্রে গাইড না নিলেও চলবে।


শেষ কথাঃ -
ঝর্না এডভ্যাঞ্চারের সময় একটা কথা মাথায় রাখা উচিত:আপনার সমমানের আরো ৫/৬ জন সাথী সাথে রাখবেন,যারা আপনার মত সমানতালে পা মিলাতে পারবে।আর শুষ্ক খাবার আর পানি সাথে রাখবেন।ঝর্না এলাকায় কোন নেটওয়ার্ক নেই
আর দয়া করে খাবার খেয়ে উচ্ছিষ্ট ফেলে আসবেন না,সাথে নিয়ে আসবেন যাতে পরিবেশ নষ্ট না হয়।এই পরিবেশ কে বাচানো আপনার আমার সবার সমান দায়িত্ব।



লেখক=স্বরুপ ভৌমিক অন্তু


Monday, February 13, 2017

Bandarban tour

কিছুদিন আগেই ঘুরে এলাম বান্দরবানের কিছু অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে থেকে। সেই ভ্রমণ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য এই পোস্টটি লেখা। এখানে আমাদের প্লান, খরচ, সব হিসাব দিয়ে দিবো। কেউ উপকৃত হলে পোস্ট টি স্বার্থক। খুব চ্যালেঞ্জিং, এডভেঞ্চার আর বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যের মুখোমুখি একটি ভ্রমণ ।
আমরা বন্ধুরা ছিলাম ১০ জন। আর ১০ জনের জন্য পারফেক্ট ট্যুর আর ট্যুরের জন্য ১০ জনই পারফেক্ট এর কম/বেশি হলে খরচের হিসাব ভালোই কম/বেশি হবে।
সময়ঃ ৪ দিন ৩ রাত
সদস্যঃ ১০ জন
বাজেটঃ ৬০০০/- (আমাদের ছিলো)
স্পটঃ নীলগিরি, আমিয়াখুম, সাতভাইখুম, নাফাখুম, স্বর্ণমন্দির...
উপকরণঃ
★★★ যার যার ন্যাশনাল আইডি কার্ড (যদি থাকে) আর না থাকলে যে কা
সবার কাছে ১০০ টাকার কমপক্ষে ১০ টা নোট (১০০০/-) রাখা দরকার, ভাঙতি নিয়ে নাইলে ঝামেলা পোহাইতে হয়....
আর যা যা নিতে হবেঃ
১। চার্জার
২। পাওয়ার ব্যাংক (যার যার আছে)
৩। শীতের কাপড়
৪। কার্ড/টুকটাক সময় পাসের মত কিছু (গেম)
৫। মোবাইলে পর্যাপ্ত টাকা (যদিও নেটওয়ার্ক পাই নি)
৬। প্রাথমিক কিছু ওষুধ নিলে ভালো হয় (একজন নিলেই হয় - যেমন ব্যথার, বমির, বদ হজমের....)
৭। মাল্টিপ্লাগ (যার যার কাছে এক্সট্রা আছে)
৮। শুকনো খাবার তবে পেট ভরার মত (উদাহরণস্বরূপ কেক, রুটি, )
৯। ট্রাভেল ব্যাগ ছাড়াও ছোট আরেকটি সহজে বহনযোগ্য ব্যাগ যাতে করে পানি, ওষুধপত্র বহন করতে পারে
১০। *** পানির বোতল। সবার সাথে ছোট ব্যাগ ও ব্যাগে কমপক্ষে ১ লিটার পানি থাকা আবশ্যক। (পানির বোতল ৫০০মিলি করে দুইটা)
১১। ম্যালেরিয়ার মলম, টিস্যু, স্যাভলন
১২। *** বেল্টয়ালা জুতা, শর্টস, কোয়ার্টার প্যান্ট, পলিথিন (জামা ভিজে গেলে/ ভেজাতে হলে সেগুলো নেওয়ার জন্য)
১৩।রোদ থেকে বাচতে হ্যাট এবং রোদচশমা
১৪। *** স্যালাইন, গ্লুকোজ, চকলেট
১৫। টর্চ
১৬। Tissue, Sanitizer (বাথরুমের অনেক সমস্যা পোহাতে হবে)
১৭। মোজা, কানটুপি, চাদর,মাফলার ইত্যাদি শীতবস্ত্র
১৮। ব্যান্ডেজ, স্কচটেপ,
১৯। লবণ (জোকের জন্য)
                                                                          নাফাকুম

গজ টা আছে, মানে পরিচয়পত্র.... ★★★
আমাদের ট্যুর প্লান , খরচ সহ (এখানে আমাদের ১০ জনের টোটাল খরচের হিসাব দেওয়া হলোঃ
১ম দিন =>
আগের দিন রাতে ডলফিন চেয়ার কোচে কমলাপুর থেকে ডলফিন চেয়ার কোচে বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
ঢাকা - বান্দরবান = ৬০০০/- (বাস)
বান্দরবান - নীলগিরি - থানচি = ৫০০০/- (চান্দের গাড়ী)
নীলগিরিতে টিকেট + গাড়ি পার্কিং = ৮০০/- (৫০০/- + ৩০০/-)
থানচি তে আমরা আমাদের গাইডের সাথে সাক্ষাৎ করি এবং তাকে এর পর সাথে নিয়ে ঘোরা শুরু হয়। আর থানচি থানাতে আমাদের সবার পরিচয় পত্র দিতে হয় ও ছবি নিয়ে রাখে।
থানচি - পদ্মমুখ/পদ্মঝিরি = ২০০০/- (২ টা নৌকা, ১০০০/- করে)
পদ্মমুখ থেকে ট্রাকিং শুরু হয়। থুইসাপাড়ার উদ্দেশ্যে হাঁটলেও পথিমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় রাত টা হরিশ্চন্দ্রপাড়াতে থাকি।
সেখানে রাতে খাওয়ার জন্য মুরগি = ১৩০০/- (৪০০/- কেজি)
রাতে খাওয়া + থাকা + সকালে খাওয়া = ১৯০০/- (সবার জন্য রাতে থাকা ১৫০/- করে নিয়ম হলেও আমরা ১২০/- তে ম্যানেজ করেছিলাম)
২য় দিন =>
হরিশচন্দ্রপাড়া থেকে হাঁটতে হাঁটতে আমরা যাই থুইসাপাড়া। আমাদের মধ্যে ৩ জন যায় আমিয়াখুম, সাতভাইখুম দেখতে। আর বাকিরা রেমাক্রী খালে গোসল করে সময় কাটায়।
থুইসাপাড়া দুপুরে খাওয়া = ১৫০০/- (ভাত, মুরগি, ডিম, ডাল)
এর পর আবার বিকালে সবাই একসাথে হলে রাতে যাই জিনাপাড়া তে।
সেখানে গাইড (আমিয়াখুম এর আলাদা গাইড নিতে হয়েছিলো) + থাকা + মুরগি + মসলা = ৩১০০/-
৩য় দিন =>
জিনাপাড়া রাতে থেকে সকালে হাল্কা চা বিস্কিট খেয়ে পথে কিছু খাওয়ার জন্য আরো কিছু বিস্কিট কেনা কাটা করে বের হই । হাঁটতে হাঁটতে নাফাখুম গেলাম। সেখান থেকে আবার হাঁটতে হাঁটতে রেমাক্রী। সেখান থেকে নৌকা পেলাম।
রেমাক্রী - থানচি = ৫০০০/- (২ টা নৌকা, ২৫০০/- করে)
থানচি এসে গাইড কে বিদায় দেই। যদিও গাইডের সাথে কথা ছিলো ৬০০০ এর, কিন্তু ব্যবহার অত্যন্ত ভালো থাকায় আর অনেক মিশুক হওয়ায় তাকে ভালো লাগাতে, ৭০০০/- দেওয়া হয়।
গাইড = ৭০০০/-
থানচি বাজারে রাতে থাকা = ১০০০/-
৪র্থ দিন =>
থানচি - বান্দরবান = ৬০০০/- (বান্দরবানের আশে পাশে নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির সব ঘুরিয়ে নিতে ৭০০০/- চেয়েছিলো। কিন্তু আমাদের কাছে ব্যাক করার টিকেট না থাকায় আমরা সরাসরি ৬০০০/- দিয়ে বান্দরবান যাই। চান্দের গাড়িতে)
বান্দরবান - স্বর্ণমন্দির = ৬০০/- (২ টা রিজার্ভ অটো, আপ ডাউন)

                                                                        নীলগিরি

স্বর্ণমন্দির এ টিকেট + জুতা রাখা = ৩৫০/- (৩০০/- + ৫০/-)
আমাদের ভ্রমণটা আরো পরিপূর্ণ করতে ট্রেন জার্নি টাও করতে চাচ্ছিলাম। তাই,
বান্দরবান - চট্টগ্রাম = ১১০০/- (পূর্বাণী বাসে)
চট্টগ্রাম - রেল ষ্টেশন = ১০০/- (লেগুনা, ১০/- করে)
চট্টগ্রাম - ঢাকা = ৩৫০০/- (ট্রেন)
*** মোট = ৪৬২৫০/- (১০ জন)
যা একেকজন ৪৬২৫/-
আর অন্যান্য খাবার দাবার ছাড়া খরচ টা ধরা হয়েছে, তো সেই হিসাবে ৫৫০০/- এর মধ্যেই বলা যায় আমাদের ট্যুর সফল।
সাবধানতাঃ
-> যত হালকা ব্যাগ নেওয়া যায়
-> অবশ্যই নখ কাটা (পায়ের নখ যাতে না উলটে)
-> জিন্সের বদলে ট্রাউজার
-> বাঙালি গাইড পরিহার (বাঙালি গাইড মাতাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে)
-> ***টাকা কমপক্ষে ৭হাজার। বিকাশ এর ব্যবস্থা
-> মুরগি কাটার সময় হালাল করে নেওয়া (নিজ উদ্যোগে)
-> খুব বেশি হাঁটতে হবে তাই সেই রকম এনার্জী বুঝে।


লেখক=জায়েদ হাসান