Wednesday, February 15, 2017

Napittachora tour

টিপরাখুম
কুপিকাটাখুম
'এডভ্যাঞ্চার' একটি নেশার নাম।একবার নেশা লেগে গেলে ছেড়ে দেওয়া অনেক কঠিন।এমনি অনেক নেশা লুকিয়ে আছে চট্টগ্রামের মীরশ্বরাই-সীতাকুন্ড রেঞ্জের আনাচে কানাচে।আজ বলা যাক 'নাপিত্তছড়া' ঝর্নার কথা।
বাঘবিয়ানি
যেভাবে যেতে হয়:
ঝিরিপথ
চট্টগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে কদমতলী শুভপুর বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে।বারৈয়ডালা গামী উত্তরা বা চয়েজ নামক দুইটি বাসের যেকোন একটি তে উঠে মীরশ্বরাইয়ের নয়দুয়ারি বাজার নামতে হয়।বাস ভাড়া আনুমানিক ৫০/৮০ টাকা। ঢাকা থেকে আসতে গেলে আপনাকে চট্টগ্রাম গামী গাড়িতে উঠতে হবে।ভাড়া হয়ত চট্টগ্রাম যেতে যা লাগে তাই দিতে হবে।আপনার ভ্রমনটাকে সংকটমুক্ত করতে একজন গাইড ভাড়া করতে পারেন।গাড়ি থেকে নামলেই  রাস্তার পাশেই কয়েকটা দোকান পাবেন। ওখানেই আপনি গাইড পেয়ে যাবেন।সেখানে নাস্তা সেরে ফেলতে পারেন। গাইড বয়সভেদে ৩০০/৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।দোকানগুলার পাশে দিয়েই গ্রামের রাস্তা চলে গেছে। ওখান দিয়েই হাঁটা শুরু করুন। নয়দুয়ারি গ্রাম হয়ে টিপরা পল্লীর পাশ দিয়ে হেটে যেতে হয় ঝিরিপথ ধরে।পথে অনেক ছোটখাট খাদ টাইপের জায়গা আছে যা
গাইডের সাহায্য নিয়ে এড়িয়ে যেতে পারবেন।স্বাভাবিক গতিতে এক ঘন্টা হাটলে প্রথম ঝর্নায় পৌছা যাবে।প্রথম ঝর্নার নাম 'টিপরাখুম'।ঝর্নার বাম পাশ দিয়ে গাছের শিকড় বাকল ধরে উপরে উঠার জায়গা আছে।উপরে উঠেই পাওয়া যাবে প্রথম ঝর্নার উৎস 'কুপিকাটাকুম' ঝর্না।ঝর্নার তলদেশ প্রায় ৬০/৭০ ফুট গভীর।এই জায়গা টা যতটা সম্ভব পরিহার করতে চেস্টা করবেন। এইখানে নামার দুঃসাহস ও করবেন না।

কুপিকাটাকুমের ডান দিকে পাহাড়ে উঠার সিড়ি আছে।অই সিড়ি ধরে উপরে উঠতে হয়।ভালই উপরে উঠতে হবে।তারপর আবার হাঁটা শুরু করবেন। প্রায় আধা ঘন্টা পাহাড়ী পথ আর ঝিরি ধরে হাটলে 'বাঘবিয়ানি' ঝর্নায় পৌছানো যায়।এই ঝর্না অনেকটা রাঙ্গামাটির শুভলং ঝর্নার মত..!!


                                                                      বাঘবিয়ানি



                                                                 নাপিত্তাছড়া ঝর্না


অইখান আবার পিছনে ফিরে আসতে হয়।প্রায় ২০ মিনিট পিছনে অর্থাৎ আগের পথে ফেরত আসলে হাতের ডানদিকে আরেকটি ঝিরিপথ পাবেন যা পিছলা এবং বড় পাথরে ভরা।পথটা কিছুটা সঙ্কীর্ণ,
সামান্য পা ভড়কালেই ভাল চোট পাওয়া যাবে ,সুতরাং একটু সাবধানে চলতে হবে।
ঝিরিপথ ধরে প্রায় আধা ঘন্টা হাটলে 'নাপিত্তছড়া 'ঝর্নায় পৌছানো যায়।এটাই এই ট্রেইলের শেষ ঝরনা।অনেক সময় গাইডরা এইদিকে নিয়ে যেতে চায় না,বলে যে ওইদিকে তেমন কিছু নাই বা জাস্ট ঝিরিপথ আছে আর কোন ঝর্না নাই।বাট আপনার এই নাপিত্তাছড়া ভ্রমণ কে নিশ্চয়ই আপনি অসম্পূর্ণ রাখতে চাইবেন না।সুতরাং গাইডকে বাধ্য করুন অই পথে আপনাকে নিয়ে জেতে।হয়ত কিছুটা সংকীর্ণ পথ,বাট একেবারে না চলার মত না।জাস্ট একটু সাবধানে চললেই হবে। ফিরার সময় আরেকটা পথ ব্যবহার করা যায় যা গাইড আপনাকে দেখিয়ে দিবে। গাইড না নিলে যে পথে আসবেন অই পথ ধরে ফিরতে পারবেন।

কি খাবেনঃ
ওখানে পাহাড়ের ভিতরে কোন খাবারের দোকান নাই।সুতরাং যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের দোকান থেকে নাস্তা সেরে নিন এবং খিদা লাগলে খাওয়ার জন্য কিছু শুকনো খাবার সাথে রাখতে পারেন।
ট্রাকিং শেষে খাবারের জন্য আপনাকে নয়দুয়ারি বাজার ফিরতে হবে।ছোট ছোট অনেক দোকান আছে যেখানে ১০০ টাকায় ভর্তা,ডিম,মাংস দিয়ে ভরপেট খেতে পারবেন।চট্টগ্রাম থেকে গেলে আসা+যাওয়া ৮০*২=১৬০+খাবার ১০০টাকা=২৬০ টাকা খরচ হবে।


কিরকম খরচ পড়বেঃ
চট্টগ্রাম থেকে গেলে আসা+যাওয়া ৮০*২=১৬০+খাবার ১০০টাকা=২৬০ টাকা খরচ হবে।তবে সিজন অনুযায়ী আর গারি অনুযায়ী গাড়ি ভাড়া কম বেশি হতে পারে।
ঢাকা থেকে গেলে আপনার গাড়ি ভাড়া বাদে এক্সট্রা আর জাস্ট গাইড এবং খাবার খরচ লাগবে।৫/৬ জন মিলে গেলে গাইড বাবদ মোটামুটি ৫০\৬০ টাকা খরচ হবে।গাইড নিলে খুবই ভাল হয় তবে আপনাদের সাথের কেও যদি আগে এসে থাকেন সেক্ষেত্রে গাইড না নিলেও চলবে।


শেষ কথাঃ -
ঝর্না এডভ্যাঞ্চারের সময় একটা কথা মাথায় রাখা উচিত:আপনার সমমানের আরো ৫/৬ জন সাথী সাথে রাখবেন,যারা আপনার মত সমানতালে পা মিলাতে পারবে।আর শুষ্ক খাবার আর পানি সাথে রাখবেন।ঝর্না এলাকায় কোন নেটওয়ার্ক নেই
আর দয়া করে খাবার খেয়ে উচ্ছিষ্ট ফেলে আসবেন না,সাথে নিয়ে আসবেন যাতে পরিবেশ নষ্ট না হয়।এই পরিবেশ কে বাচানো আপনার আমার সবার সমান দায়িত্ব।



লেখক=স্বরুপ ভৌমিক অন্তু